3 April- 2025 ।। [bangla_date]


তত্ত্বাবধায়কের অবহেলায় ঔষধ সংকটে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

দূরযাত্রা রিপোর্টঃ ঝালকাঠি জেলার ১০০ শয্যা সদর হাসপাতাল চলতি বছরেই বড় ধরনের ঔষধ সংকটে পরতে যাচ্ছে। এক দিকে চিকিৎসক ও প্যাথলজি সংকট অন্য দিকে ঔষধ সংকটে ইতিমধ্যেই নাকাল সেবা নিতে আসা রোগীরা। ১৬ পদের বিপরীতে মাত্র ৪ জন ডাক্তার থাকায় চিকিৎসা সেবাও মুখ থুবরে পরেছে।

এ অবস্থায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসাপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে ঔষধ ক্রয়ে জরুরী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু ঔষধ ক্রয়ে ইজিপি (ইলেট্রনিক গভারর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রক্রিয়ার টেন্ডারে অবৈধ ভাবে লাভবান হবার কোন সুযোগ নেই। তাই কিছু অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে এমএসআর (মেডিকেল এন্ড সার্জিকেল রিকিউজিট) টেন্ডারে ঔষধ ক্রয় সম্ভব নয় জানিয়ে স্বাস্থ্য পরিচালকের নির্দেশনা প্রত্যাক্ষান করছে তত্ত্বাবধায়ক ।

হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি —০২৮ স্মারকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল তত্ত্বাবধায়ক বরাবরে এক চিঠি দেন। এতে পরিচালক উল্লেখ করেন, আপনাকে অবগত করা সত্বেও ১০০ শয্যার ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এমএসআর সামগ্রী ক্রয় প্রক্রীয়া এখনো শুরু করা হয়নি। এ সামগ্রী ক্রয় না করলে জনগন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। যেহেতু চলতি অর্থ বছর শেষের দিকে। তাই জরুরী ভিত্তিতে এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করা হলো।

এ চিঠি প্রাপ্তির পর ১২ জানুয়ারি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ —০৪ স্মারকে বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে একটি চিঠি প্রদান করেন। এতে হাসপাতালের সমস্যা, অসুবিধা ও নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, গত ১২ জানুয়ারি হাসপাতালের চাকুরিচ্যুত এ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদাত হোসেন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের একটি রুমে তালাবদ্ধ করে। এ বিষয়ে আমি থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা (নং-১০) করি। এরপর থেকে আমার নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আপনাকে অবহিত করি। তিনি চিঠিতে আরো উল্লেখ করেন তার নানা সমস্যা, অপরাগতা, অন্যত্র বদলী এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য অবহিত করা হয়েছে ইতিপূর্বে। হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি কাজ করেন বলে সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায়ও নাকি তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া দুদকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান। এই পরিস্থিতির কারণে এমএসআর টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব নয় বলে বিভাগীয় পরিচালককে তত্ত্বাবধায়ক তার এই চিঠিতে জানান। কিন্তু বড় সংকট সৃষ্টি হলে হাসপাতালে আসা রোগীরা ঔষধ না পেলে এসব অযুহাত কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, ইতিমধ্যেই ২ মাস আগেই ঔষধ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইনহেলার, ইনসুলিন, শ্বাস কষ্টের ঔষধ, এ্যাজমা, হৃদরোগের ঔষধসহ আইভি স্যালাইনের স্টক শেষ হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি প্যাথলজি বিভাগের বায়োকেমিষ্ট্রি মেশিন বিকল হয়ে পরে আছে। মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও সচলের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ১ মাস ধরে ফিজিওথেরাপী বন্ধ। কর্মরত টেকনলজিষ্টকে বদলীর ছাড়পত্র দেয়ায় শূন্য পদ পূরন না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রোগীরা বাহিরে পরীক্ষা করতে হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটও চরম আকার ধারন করছে। ১৬ জন মেডিক্যাল অফিসার পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৪ জন। গত ৬ মাস ধরে এ অবস্থার মধ্যেও ডাক্তার মো. মাহামুদর রহমানকে ২ মাসের জন্য প্রশিক্ষণে যেতে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তাই বর্তমানে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কোন মতে চলছে সদর হাসপাতাল।

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ডা. শামিম ঝালকাঠিতে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আউটসোর্সিং প্রকল্পের এ্যাম্বুলেন্স চালক শাহাদত হোসেনকে তার ডক্টরস কোয়াটারে রাখেন। হাসপাতাল চত্ত্বরে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য আলাদা ভবন রয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের ঘনিষ্ট হওয়ায় শাহাদাত ডক্টরস কোয়াটারে থাকার সুবাধে মাদক ব্যবসা করতেন। কিন্তু হঠাৎ মতোবিরোধ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে তার সাথে প্রায় ২ বছর থাকলেও এতাদিন কেন মতোবিরোধ হয়নি। পাশাপাশি সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করলে দুদক কেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বরং তত্ত্বাবধায়কের দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কর্মস্থলে না থাকা কিছু ডাক্তারদের নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। সূত্র জানায়,
বিগত ২১ বছর (ওটিএম) ওপেন টেন্ডার মেথড প্রক্রিয়ায় এ হাসপাতালে ঔষধ সরবরাহের করা হতো। এখন ইজিপি (ইলেকট্রনিক গভর্ননেন্স প্রকিউরমেন্ট) প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করার নির্দেশনা রয়েছে। এতে তত্ত্বাবধায়ক অবৈধ ভাবে লাভবান হতে পারবে না বলেই তিনি এসব টালবাহানা এবং অযৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে টেন্ডার না করার পায়তারা করছে। এছাড়া ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তত্ত্বাবধায়ক বিপুল পরিমান ঔষধ, কেমিক্যাল রিএজেন্টসহ অন্নান্য সামগ্রী ক্রয় করেন। তাই প্রশ্ন উঠেছে তখন পারলে এখন পারবেন না কেন। নাকি এর পিছনে অন্য কোন রহস্য নিহিত আছে তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, চলতি অর্থবছরে টেন্ডার না হওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে সেটা কিছুটা সত্য। তবে টেন্ডারের পরিবেশ না থাকায় এটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পূর্ববর্তী সিভিল সার্জন এইচ এম জহিরুল ইসলামের সময়ে আমার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়, এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর আমাকে হেড অফিস থেকে চিঠি দিয়ে টেন্ডার দিতে বলা হলেও আমি কিছু যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে টেন্ডার দেইনি।
তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়। তবে বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% রয়েছে, এবং আমি আশা করি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, আমার চিঠির প্রেক্ষিতে তত্বাবাধায়কের জবাব পেয়ে মন্ত্রনালয়কে জানিয়ে বিস্তারিত ব্যাখা দিয়ে লিখেছি। তবে তত্বাতধায়ক আমাকে বলেছে ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করছেন। তিনি চাইলে আগামী জুনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media




More News Of This Category




Mobile : 01712387795

Email:dailydurjatra@gmail.com
টপ
গরীব মানুষের মাঝে সিটি ক্লাব ও পাঠাগার এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ। দ্রুত ট্রাফিক পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা ঝালকাঠিতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে অবৈধ ট্রাক ট্রলি, দানবীয় রুপে চলছে প্রকাশ্যে অবশেষে তত্ত্বাবধায়ক শামিমকে খাগড়াছড়ীতে বদলী, জনমনে স্বস্তি, দুদকের তদন্ত অব্যাহত ঝালকাঠিতে ২১ লাখ টাকার অবৈধ দেশি সিগারেট জব্দ ঝালকাঠি সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান ঈদ বস্ত্র বিতরণ করে এমপিও ভূক্তির আশ্বাস জেলা প্রশাসকের সাবেক মন্ত্রী আমু তার কথিত কন্যা সুমাইয়া শ্যালিকা মেরীর বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা জীবা খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ড. জিয়া উদ্দিন স্বপনের তত্ত্বাবধায়কের অবহেলায় ঔষধ সংকটে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল, চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ চিকিৎসক দিয়ে চলছে ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা অভাবের সংসারে হাল ধরতে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ রায়হান