মো. শাহীন আলম, ঝালকাঠিঃ চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে নলছিটি উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ২১ পদের বিপরীতে ডেন্টাল সহ মাত্র ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। তাছাড়া সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার দুই লক্ষ্যাধিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় প্রধান ভরসা নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালে মিলছে না কাঙ্খিত সেবা। সিজারিয়ান সেকশনসহ অন্য অপারেশনের জন্য রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব রোগীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। নলছিটি উপজেলার এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল। এ হাসপাতালে বর্তমানে মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টাল পদ ২১ থাকলেও তার বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১০ জন থাকলেও তার বিপরীতে মাত্র ৩ জন কর্মরত রয়েছেন।
এ উপজেলা থেকে জেলা সদরে আসতে নৌপথ ব্যবহার করতে হয়। দিনের বেলা ভোগান্তি নিয়ে রোগী আনা-নেয়া করা হলেও রাতে জেলা সদরে আসার কোনো ব্যবস্থা নেই। নলছিটি থেকে বরিশালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে যেতেও অনেক খরচ ও সময় লেগে যায়। এতে উপজেলার মানুষ চরম ঝুঁকিতে আছেন।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ক্লিনিক বা বরিশাল হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ খরচ হচ্ছে। তাছাড়া হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক দিয়ে এতগুলো বিভাগ চালানো কষ্টকর। আশাকরি দ্রুত এটার সমাধান হবে বলে জানান নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিউলি পারভীন।
ঝালকাঠি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট সম্পর্কে বলেন, তিনি চলতি মাসের ৯ তারিখে দায়িত্ব নিয়ে উপজেলার সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং প্রতিটি স্থানে চিকিৎসক সংকট আছে। যেখানে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে নলছিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বিষয়টি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে অবহিত করেছেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। তার আশা, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। বিশেষজ্ঞসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের শূন্যপদ গুলো দ্রুত পূরণ করে চিকিৎসার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিবেন কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।