দূরযাত্রা রিপোর্টঃ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও চেয়ারপার্সন এর বৈদেশিক বিষয়ক সহকারি জীবা আমিন আল গাজীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার স্বপন। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জীবা খান। গত ১৯ মার্চ বাদ আছর জীবা খানের ঢাকায় বারিধারা বাসভবনে সাক্ষাত করেন জিয়া উদ্দিন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মতিয়া জুয়েল। এসময় জীবা আমিনা খান ও জিয়া উদ্দিনের সাথে দলকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে আলোচনা হয়। ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার স্বপন সেখানে ইফতার শেষে বিদায় নেন। সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে জীবা খান বলেন, ড. জিয়া উদ্দিন হয়দার আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসেছেন। তিনি ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতি নয় বরং জাতীয় পর্যায়ে দলকে কি ভাবে আরো সুশৃংখল ও সুসংগঠিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় ম্যাডামের পক্ষে সে বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি পরামর্শ দিবেন। এছাড়াও একটি দক্ষ রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের কাজেও সহায়তা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সনে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি-নলছিটি) আসনে মনোনয়ন পাওয়া হোয়ইট কালার ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত জীবা আমিনা খান। তার বিপরীতে আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমির হোসেন আমুকে। ঐ নির্বাচনে আমু বিএনপির পক্ষ থেকে জীবা খান প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকার বিষয়টি ভাল ভাবে নিতে পারেনি। তাই তার দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা ঝালকাঠি ও নলছিটিতে জীবা খান ও তার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাংচুর করে ছিল। কিন্তু অদম্য সাহষ আর নিজের সততার কারণে জীবা খান দমে না গিয়ে ভয়কে জয় করে মাঠ না ছেড়ে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত মাঠেই ছিলেন। ঐ সময় তার উপর হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় মামলা নেয়া না হলেও ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পর তিনি নিজেই বাদী হয়ে ঝালকাঠি ও নলছিটি থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় মামলায় তৎকালিন প্রধান মন্ত্রী শেষ হাসিনাকে হুকুমের আসামী করে আমির হোসেন আমুসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ দুটি আজ অবধি মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়নি।
এভাবেই জীবা খান নিজের ইমেজ দিয়েই দল ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রীয় নেত্রী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। শুধু এ আসনেই নয় কেন্দ্রীয় দায়িত্বপূর্ন পদে থাকার কারণে তিনি দেশ বিদেশেও বিএনপির একজন পরিচিত নেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দিন তিনি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির পাশে ও সাথে থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বিগত স্বৈারাচার সরকারের ১৫ বছর দেশে থেকে যেমনি সাহষী ভূমিকার কারণে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন
তেমনি একাধিক মামলারও আসামী হয়েছেন। ঐ সরকার পতনের পরেও আবার তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাথে থেকে মাঠের কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আয়োজনে জেলার একাধিক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি হিসাবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব জনসভায় নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারে তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান জেবা আমিনা খান। সব শেষ ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া এই নেত্রী বিগত দিনের ন্যায় আগামীতেও নেতাকর্মীরা পাশে থাকবেন বলে তাদের ধারনা ।