দূরযাত্রা রিপোর্টঃ শেষ রক্ষা হলোনা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের দূর্নীতিবাজ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, সরকারি বরাদ্দ অর্থ লোপাটকারি তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদের। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ২৫ মার্চ এর এক প্রজ্ঞাপনে শামিম আহম্মেদকে খাগড়াছড়ি বদলী করা হয়। একই সাথে ঝালকাঠির
সিভিল সার্জনকে তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। তার দূর্নীতির সংবাদ করায় তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে কর্মস্থলে না থাকা কজন ডাক্তারদের নিয়ে মানববন্ধন করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে ছিল।
আগামী ৭ এপ্রীলের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে ৮ এপ্রিল বর্তমান কর্মস্থল অবমুক্ত গণ্য হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই তার দূর্নীতির কিছু প্রমান যাচাই বাছাই করে সত্যতা পাওয়ায় সেই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে চলছে বলে দুদক সূত্র জানায়। তত্ত্বাবধায়ক শামিম কে ঝালকাঠি থেকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরাবরে ঝালকাঠি সাংবাদিক সমাজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি প্রেসক্লাব, সংবাদপত্র পরিষদ, টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতি, ঝালকাঠি টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করে এ স্মারকলিপি প্রদান করে। বর্তমান জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
বিতর্কিত এই তত্ত্বাবধায়ক শামিম আহম্মেদ ঝালকাঠিতে যোগদানের পর থেকে হাসপাতালে বিশৃংখল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি স্টাফদের অযথা হয়রানী করতে শোকজ, উৎকোচ দাবি, বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ ভূয়া ভাউচারে আত্মসাত, এ্যাম্বুলেন্সের ভূয়া ভাউচারে রোগী সরবরাহ দেখিয়ে তেলের টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। তার সহযোগী হিসাবে আইটসোর্সিং প্রকল্পের গাড়ি চালক শাহাদাতকে সাথে নিয়ে সে হাসপাতালটিকে দূর্নীতির অভয়াশ্রমে পরিনত করে ছিল। এমনকি শাহাদতকে ডা. শামিম তার নিজ সরকারি বাস ভবনের নিচ তলায় রেখে মাদক বিণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। তাই চালক শাহাদাতের এ্যাম্বুলেন্স থেকে ডিবি পুলিশ ইয়াবার বড় চালান পেলেও গ্রেফতার করতে দেয়নি তত্ত্বাবধায়ক। অপরদিকে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মহসীনকে বিভিন্ন অযুহাতে শোকজ করে
হয়রানী করা হয়। মহসীনের কারণে আইটসোর্সিং প্রকল্পের গাড়ি চালক শাহাদাতকে নিয়ে ভূয়া বিল ভাউচার করতে না পারায় এখান থেকে বদলী করে সরিয়ে দেয় তত্ত্বাবধায়ক।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তার দূর্নীতি লুটপাটের প্রকাশিত সংবাদের একটি পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর জন্য ৬০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করেন কমিটির অনুমতি ছাড়াই। সরকারি বরাদ্দের টাকায় তার এই ব্যক্তিগত স্বার্থের বিল পরিশোধ করেন। এই তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পেলেও তৎকালিন আবরক দূর্নীতিবাজ ঝালকাঠির সাবেক এমপি আমুর সহযোগীতায় তদন্ত রিপোর্ট চাপা দেন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে ঐ তদন্ত করে ছিলেন।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামিম আহমেদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের প্রায় ১৮ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ঐ অভিযোগে উর্লেখ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক দূর্নীতির মাধ্যমে ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে ব্যায়ন কমিটির অনুমতি না নিয়ে একাই স্বাক্ষর করে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন।অনাকাকিক্ষত ভ্রমন ব্যায় বিল, বিধি অনুযায়ি সরকারি বাসা ভাড়া কর্তন না করা, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যহার, রোগীদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ, কর্মস্থলে অনিয়মিত অনুপস্থিতি, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি এ্যম্বুলেন্স ব্যবহারসহ সরকারি নয়মের বাহিরে সেচ্ছাচিারিতা করে আসছেন। এছাড়া ষ্টাফদের ভয়ভীত দেখিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়রানী, তত্ত্বাবধায়কের খেয়াল খুশি মতো ষ্টোফদের বেতন ভাতা বন্ধ, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা অনুষ্ঠান শেষ হবার পর প্রদানসহ তিনি যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পরেন। আউট সোর্সিং ড্রাইভার মো. শাহাদাৎ হোসেনের মাধ্যমে রোগীদের নিকট হতে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে থাকেন। যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আরো উল্লেখ করা হয় এসব নিয়ে দেশের প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় অভিযোগের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ডা. শামিম আহমেদের রংপুরে সিভিল সার্জন পদে থাকা কালীন ২৫ লাখ
টাকা আত্মসাৎ এবং সেখান তেকে বদলী হয়ে ঝালকাঠি আসার সময় সরকারি ল্যাপটপটি চার্জ তালিকায় জমা না দিয়ে ঝালকাঠি নিয়ে আসার কথাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৩ সনের মার্চ মাসে ঝালকাঠিতে যোগদানের কিছু দিন পরেই হাসপাতালের যন্ত্রাংশ সরবরাহের প্রায় আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার কাজ চাপা দেন। এর মাধ্যমে ঝালকাঠি পত্রিকার সম্পাদকদের বিজ্ঞপ্তি থেকে বঞ্চিত করেন। বরিশালের পত্রিকায় ঐ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক আমুর উপর দায় চাপিয়ে এরিয়ে যান। এই দূর্নীতিবাজ শামিম আহম্মেদ সাবেক দূর্নীতিবাজ এমপি আমুর চাটুকারিতা করে এখানে টিকে ছিলেন। তার চাটুকারিতা এমন পর্যায়ে গিয়ে ছিল যে নির্মানাধীন নতুন ৯ তলা ১৫০ শয্যা ভবনের কাজ শেষ না হতেই আমুকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে তাকে সন্তষ্ট রাখেন। ইতিমধ্যেই শামিম আহমেদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত দূর্নীতির সংবাদের সূত্র ধরে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। ঝালকাঠি-পিরোজপুর জোনের দুদুক পরিচালক জানান, তাদের তদন্তের কাজ এখনো অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে একধিক স্বাক্ষি ও প্রমানাদির ডকুমেন্ট সংগ্রহ। যা যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। এদিকে এই দূর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়কের বদলীর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বমহলে আনন্দের ঝড় উঠেছে। সবার মতামত এবার যদি হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ ফিরে আসে।