মাসুম খান, ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠিতে কঠোর ভূমিকা না নেয়ায় অভাবে অবৈধ ডাইসু (ট্রাক টলির) বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা, আহত হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীরা। অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করে শহরে চলাচল করায় ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অধিকাংশ সড়ক।
জানাযায়, দানবীয় গতির এই যানগুলো শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চলাচল করায় পথচারীদের চলাফেরায় অসুবিধা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অনুমোদনহীন যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে তিন চাকার ডিজেলচালিত ডাইসু চলাচলের ফলে সড়কগুলো হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব যানবাহনের চালকদের বেশির ভাগেরই নেই বৈধ লাইসেন্স বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। একদিকে চালকরা নিজেরাই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে পথচারীদের জন্যও তৈরি হচ্ছে মৃত্যুঝুঁকি। রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স না থাকায় রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই ট্রলি গুলোর চালকদের কোন প্রশিক্ষন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। বিশেষ করে কলেজ মোড়, ডায়াবেটিকস হাসপাতাল সড়ক ও পালবাড়ি থেকে এগুলো শহরে প্রবেশ করছে অহরহ।
স্থানীয়রা জানান, জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা তিন চাকার এই ডাইসুগুলো মূলত ইট, বালু ও কাঠ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে অদক্ষ চালকদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এগুলো ভয়ংকর হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছরে উপজেলার সড়কগুলোতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ডাইসুর কারণে ঘটেছে। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডাইসু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মো. নয়ন হোসেন নামে এক হেলপার। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নলছিটির সূর্যপাশা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হাওলাদার ডাইসু উল্টে চাপা পড়ে মারা যান। এছাড়া ২০২২ সালে শুকতারা ব্রিকস এলাকায় ইটবোঝাই ডাইসুর নিচে চাপা পড়ে ভাবনা নামে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে এবং ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। জেলায় ইটভাটা গুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪শত টি ডাইসু (ট্রাক টলির) চলাচল করে। বিশেষ করে ঝালকাঠি পৌরসভা ভিতরে ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ঝালকাঠি শহরবাসী। শব্দ ও বায়ুদূষণের কারণেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা। ফজরের নামাজের পর থেকেই এসব যানবাহনের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন ঝালকাঠি বাসিন্দারা ।দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনহীন যানবাহন বন্ধের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঝালকাঠির টিআই (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মোঃ ওমর ফারুক এই প্রতিবেদককে জানান, খুব শীঘ্রই এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলি অবৈধ (ট্রাক টলির) তিন চাকা ওয়ালা গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত আছে। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানান, বিষয়টি নজরে আসছে। এব্যাপারে অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।