Daily Durjatra

ঝালকাঠিতে ছেলের হাতে মা খুন ‎ ঝালকাঠিতে জুলাই শহীদ পরিবারের মাঝে সঞ্চয়পত্র বিতরণ ঝালকাঠিতে বাফলা চ্যারিটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ সহ্য করা হবে না – ইসি সানাউল্লাহ তারেক রহমানের সাথে সিলেটের যুব সংলাপ বাংলাদেশের রাজনীতিকে কী বার্তা দিল গণভোটের প্রচারণায় ঝালকাঠিতে জেলা তথ্য অফিসের ‘ভোটের রিকশা’ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিল পিআইবি ‎ ঝালকাঠিতে পিআইবির ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠির দুই আসনে চার প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন ‎ ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এবি পার্টির প্রার্থিতা প্রত্যাহার

রাজাপুর সঃ কলেজে মাউশি’র বরাদ্দ অর্থের ভাউচারের সাথে মালামাল ক্রয়ের মিল না থাকার অভিযোগ

রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতাঃ রাজাপুর সরকারি কলেজের ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত টাকা আদায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ফি নেওয়াসহ জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি থেকে পরপর দুই অর্থ বছরের বরাদ্দের পাঁচ লক্ষ টাকা উত্তোলন হলেও এর সঠিক ব্যবহার হয়নি। এমন অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজাপুর সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হুমায়ুন আহমেদ এবং সাবেক অধ্যক্ষ বাবুল গাজী মাউশি থেকে দেয়া বরাদ্দের আড়াই লাখ করে মোট পাঁচ লাখ টাকা দু দফায় উত্তোলন করেন। এরপর ক্রয় কমিটির কাছ থেকে নেয়া মনগড়া ভাউচারের মালামাল ক্রয়ের সাথে গড়মিল হয়ে যায়। সাবেক অধ্যক্ষ বাবুল গাজী উত্তোলনকৃত আড়াই লাখ টাকা থেকে অবসরে গিয়ে ১ লক্ষ টাকা কলেজের এক শিক্ষকের কাছে ফেরৎ দেয়ায় বিষয়টি ওপেন সিক্রিট। যদিও সে ঘটনা চাপা পরে যায়। তবে সাবেক অধ্যক্ষ বাবুল গাজী জানিয়েছেন তিনি ক্রয় কমিটির দেয়া আড়াই লাখ টাকার ভাউচারে স্বাক্ষর করেছেন। সব মালামাল ক্রয় করা না হলে তার দায় ক্রয় কমিটিকেই নিতে হবে।
সরজমিন অনুসন্ধানে গেলে পুঙ্খানু ভাবে ভাউচার ও মালামাল দেখাতে ব্যার্থ হয় বর্তমান অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির। তবে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য জোড়ালো অনুরোধ করেন তিনি। কারন তিনিও কলেজের আড়াই লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য অন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ক্রয় কমিটির দেয়া ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর করেছেন। যা অডিটে প্রমান মিলবে বলে কলেজের নির্বরযোগ্য একটি সূত্র জানায়। তবে অনুসন্ধানে কলেজ লাইব্রেরীর বই ক্রয়, সাইন্স ল্যাবের মালামাল ক্রয় এবং স্টেশনারী খাতে মালামাল ক্রয়ে শুভঙ্করের ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। লাইব্রেরীয়ান সালাউদ্দিনের নামে ২৭ হাজার টাকা বই ক্রয়ের চেক পাশ করে সেখান থেকেও ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ায় লাইব্ররীয়ান নিজ তহবিল থেকে বইয়ের দোকানে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। তবে এ প্রতিবেদক কলেজে অনুসন্ধানে
যাওয়ার কদিন পরে লাইব্রেরীয়ানকে ১০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছে অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির। শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবকরা জানান, কলেজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় দুর্নীতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি থেকে পরপর দুই অর্থ বছরের বরাদ্দের পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে বেশ কিছু টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা। রাজাপুরের সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানটিতে অটিট ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।