Daily Durjatra

ঝালকাঠিতে ছেলের হাতে মা খুন ‎ ঝালকাঠিতে জুলাই শহীদ পরিবারের মাঝে সঞ্চয়পত্র বিতরণ ঝালকাঠিতে বাফলা চ্যারিটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ সহ্য করা হবে না – ইসি সানাউল্লাহ তারেক রহমানের সাথে সিলেটের যুব সংলাপ বাংলাদেশের রাজনীতিকে কী বার্তা দিল গণভোটের প্রচারণায় ঝালকাঠিতে জেলা তথ্য অফিসের ‘ভোটের রিকশা’ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিল পিআইবি ‎ ঝালকাঠিতে পিআইবির ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠির দুই আসনে চার প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন ‎ ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এবি পার্টির প্রার্থিতা প্রত্যাহার

মনোনয়ন পেলে ধানের শীষ মার্কার পক্ষে এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করব

দূরযাত্রা রিপোর্টঃ ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকের নাম শোনা গেলেও তাদের মধ্যে সার্বিক বিবেচনায় যোগ্য হিসাবে ৪ জনকে ঘিরেই সাধারন মানুষের মধ্যে কৌতূহল বিদ্যমান। এরা হলেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য জীবা আমিন আল গাজী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু এবং খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ড. জিয়া হায়দার।
এছাড়াও ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক এমপি ইসরাত সুলাতান ইলেন ভূট্টোর নাম শোনা গেলেও তিনিতো ১/১১ এর সময় বিএনপি ত্যাগ করেন। সুবিধাবাদি দল তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব মান্নান ভূইয়ার সাথে বিকল্প ধারার রাজনীতিতে যোগ দেন। এছাড়াও ২০১৮ সনে ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আমুর বিপরীতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চান। তাদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে জীবা আমিন আল গাজী ও ইলেন ভূট্টোর নাম রাখা হয়। চুড়ান্ত পর্যায়ে এ আসন থেকে জীবা আমিন আল গাজীকে প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হয় তার হাতে। সেই থেকে ইলেন ভূট্টো এ আসনের রাজনীতিতে হারিয়ে যান। এখন আবার ২০২৫ সনে এসে ইলেন ভূট্টো প্রার্থী হতে গনসংযোগ শুরু করলেও তার বিষয়ে এ আসনের সাধারন মানুষ ও জেলা বিএনপির কারো কোন আগ্রহ নেই। বিগত ১৬ বছরেও তিনি উধাও হয়ে ছিলেন। জেলা কমিটির সাথে তার কোন যোগাযোগ না থাকায় এবার তারাও ইলেন ভূট্টোর সাথে কেহই নেই। তা ছাড়া বিশেষ করে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রয়াত এমপি জুলফিকার আলী ভূট্টোর স্ত্রী ইলেন ভূট্টোর উপর ভূট্টো পরিবারের স্বজনরাই বিরক্ত। কারণ ইলেন ভূট্টো তৎকালিন সময় এমপির ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জুলফিকার আলী ভূট্টো মৃত্যুর পর তার ভাই বোনের উপর অন্যায় অবিচার করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। তাদের হয়রানী করে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে ভূট্টো পরিবারের অভিযোগ। তাই নলছিটিতে স্বামীর ইমেজে ইলেন ভূট্টোর ভোট ব্যাংক আর নেই। এ কারণে ২০২৫ সনে এসে ২ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে জীবা আমিন আল গাজীকেই যোগ বিবেচিত করছেন অনেকেই। সেই সাথে এবার ঝালকাঠি-২ আসনে উল্লেখিত আরো ৩ জন পুরুষ মনোনয়ন প্রত্যাশীতো আছেই।
‎ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেবা আমিনা আল গাজী সক্রিয় আছেন বিএনপি রাজনীতিতে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে এ আসনে আওয়ামলীগ প্রার্থী আমুর সাথে বিএনপির প্রার্থী হন জীবা আমিন। তখন নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার গাড়িতে হামলা, বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ছিল। নলছিটি ও ঝালকাঠিতে দুটি উপজেলাই তার উপর হামলা চালিয়ে ছিল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ঐ সময় তার সাথে থাকা জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মতিয়া জুয়েলসহ নেতাকর্মীরাও হামলা তেকে রেহাই পাননি। এ প্রসঙ্গে জীবা আমিন বলেন, আমাকে বারবার ভাঙতে চেয়েছে, কিন্তু আমি মাথা নত করিনি। ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভায় আজ অবধি উন্নয়নের কোন ছোঁয়া পায়নি। নলছিটির সাথে ঝালকাঠি যোগাযোগের সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মান কিংবা উন্নত যাতায়াতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি মনেকরি, ঝালকাঠি-২ আসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে। তিনি বলেন, আমি যদি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হই নলছিটিতে উন্নত মানের একটি হাসপাতাল গড়ে তুলবো। যেখানে বিশেষ করে নারীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি নার্সিং ইনস্টিটিউটটির শিক্ষার মান উন্নত করে নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করার
পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিদেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা প্রচুর। আমাদের মেয়েরা যেন সেই সুযোগ নিতে পারে সে লক্ষ্যেই আমার পরিকল্পনা থাকবে।
জেবা আমিন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে চান তিনি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ যাতে সহজে শহরে যাতায়াত করতে পারে, সেই লক্ষ্যে রাস্তা, ব্রিজ ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অগ্রাধিকার থাকবে। বিশেষ করে নলছিটি সদরের সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। কৃষি প্রধান
এলাকা হওয়ায় কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন করবো। যাতে কৃষি থেকে আয় বাড়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়। ‎দলীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলে আমি হামলা মামলার শিকার হয়েছি, কিন্তু কখনো পিছিয়ে যাইনি। এখনো জনগণের পাশে আছি থাকবো। তিনি আরও বলেন, আমি কোনো দলবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা কমিশন বাণিজ্য বরদাস্ত করবো না। উন্নয়ন প্রকল্পের পুরো অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে। ধানের শীষ মার্কার প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন পেলে দলের সুনাম অর্জনে এবং এলাকার জনসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করব বলে তিনি জানান।
‎তিনি ঝালকাঠি পৌরসভার ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা দূর করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ইনস্টিটিউশন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান। সবশেষে তিনি বলেন, আমি দলকে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া ত্যাগ ও শ্রমের মূল্য চাই। আশা করি, দল এবার আমাকে মূল্যায়ন করবে।