দূরযাত্রা রিপোর্ট :
গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঝালকাঠিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কাওছার হোসেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার(সিনিয়র সহকারী জজ) মো. বায়জিদ রায়হান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আককাস সিকদার ও ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আল আমিন তালুকদারসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি,বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, যাত্রা কোন দিকে যাচ্ছে—গন্তব্য স্পষ্ট না হলে কখনো লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। আমরা প্রতিনিয়ত মিটিং করি, কিন্তু সেখান থেকে বাস্তবে কী পরিবর্তন আসে – সে বিষয়ে ভাবতে হবে। গ্রাম আদালত শান্তি ও সৌহার্দ্য রক্ষার একটি শক্তিশালী উপায়। মানবসমাজে পরিবর্তন আসে মানুষের নিজের উদ্যোগে। গ্রাম পর্যায়ে সবাই সবার পরিচিত। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, বাদী-বিবাদী সবাই সবার সম্পর্কে জানে, এটাই গ্রাম আদালতের মূল শক্তি।
তিনি উদাহরণ টেনে আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা বোঝা যায় বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো দেখে। নিউইয়র্ক শহরের নির্বাচিত মুসলিম মেয়র সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন—এটাই স্থানীয় সরকারের শক্তির প্রতিফলন। আমাদের দেশেও স্থানীয় সরকারকে এমন ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে গ্রামীণ পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত মীমাংসা সম্ভব হয়। এতে আদালতের মামলা কমবে, জনগণের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় থাকবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প’।
#




