মো. শাহীন আলম সদরঘাট থেকে :
সময়টা ১৭শ শতাব্দীর শুরুর দিকের। ১৬০৮ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতী ঢাকাকে জাহাঙ্গীরনগর নামে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন। তখনকার ঢাকা গড়ে উঠেছিল বুড়িগঙ্গাকে ঘিরেই। এই নদীর তীরেই তৈরি হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট, যেখান থেকেই পরবর্তীকালে সদরঘাটের সূচনা।
মুঘল আমলে বুড়িগঙ্গার বুকে ভেসে চলত ডিঙি নৌকা, বজরা আর পালতোলা জাহাজ। দূর-দূরান্তের বণিকেরা এখানে নোঙর ফেলত। সদরঘাট এলাকা তখন ছিল মসলিন বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। সূক্ষ্ম মসলিন, তুলা ও নানা পণ্য এই ঘাট থেকেই নদীপথে ছড়িয়ে পড়ত দূর-দূরান্তে। নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছিল আড়ত, গুদাম আর বণিকদের বসতি। বুড়িগঙ্গা তখন শুধু নদী নয়, ছিল রাজধানীর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মূল স্রোত।

সময় বদলেছে। ব্রিটিশ আমলে বুড়িগঙ্গায় স্টিমারের আগমন, পাকিস্তান আমলে জেটি নির্মাণ, আর আজ সেই একই নদীপথে চারতলা লাক্সারি যাত্রীবাহী জাহাজ ( লঞ্চের) চলাচল—নৌযানের রূপ বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, বদলেছে সদরঘাটের চেহারা। এই পরিবর্তনই সময়ের বিবর্তনের স্পষ্ট ছবি। কিন্তু উন্নয়নের এই ভিড়ের আড়ালে গল্পের আরেক দিকও আছে। এক সময়ের স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত বুড়িগঙ্গা আজ ভয়াবহ দূষণে ক্লান্ত, যেন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তার।
তবু আশা শেষ হয়ে যায়নি। লন্ডনের টেমস, প্যারিসের সেইন কিংবা ইউরোপের রাইন নদীও একসময়ও ছিল দূষিত। পরিকল্পনা, দায়িত্ববোধ আর রাজনৈতিক সদিচ্ছায় তারা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয়, নদী মরার জন্য নয়। সঠিক উদ্যোগ নিলে একদিন বুড়িগঙ্গাও তার হারানো সৌন্দর্য ফিরে পেতে পারে, আবার নতুন করে গল্প বলতে পারে সদরঘাটের চার শতকের ইতিহাসের।
#




