Daily Durjatra

মূলধারার সাংবাদিকদের জ্বালানি দিতে পাম্প মালিকদের আহ্বান জলবায়ু সুরক্ষায় ছাত্রনেতা আসিফের উদ্যোগে ঝালকাঠিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎ হাদি হত্যার ১০০ দিন: ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের বিচার দাবি ঝালকাঠিতে গণহত্যা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সভা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ‎ সন্তানের লা*শ কোলে নিয়ে বিচার চাইলেন মা দায়িত্ব না দিয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে, ৮ ঘণ্টা অন্ধকারে ঝালকাঠির গ্রাহকরা খাল আমাদের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও লাইফলাইন” – প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ড. জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে ঝালকাঠিতে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান –এর উপদেষ্টা, বলেছেন— এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে পরিমাপযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার।

সাক্ষাৎকার / ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার


‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিপুল ভোটে নির্বাচনী জয়ের পর দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। দলটি কাঠামোগত সংস্কার, প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতির নতুন ভারসাম্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃস্থাপন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি যুবকেন্দ্রিক শাসন, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির আলোকে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

‎একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. হায়দার বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দৃশ্যমান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

‎প্রশ্ন: দীর্ঘ অস্থিরতার পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি কীভাবে আস্থা ফিরিয়ে আনবে?

‎উত্তর: কাজটি সহজ নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রাতিষ্ঠানিক সততা দুর্বল হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। এই আস্থা পুনর্গঠনে সময়, ধৈর্য, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বিএনপি জনগণের শক্ত সমর্থন নিয়ে এই পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা নাগরিকদের অংশীদার করে প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে। যোগাযোগ এখানে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সংস্কারের দূত হিসেবে কাজ করতে হবে— পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা, মানুষের মতামত শোনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

‎প্রশ্ন: জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে দেখছেন?

‎উত্তর: আমরা আশাবাদী। বিএনপি গণতান্ত্রিক দল এবং গঠনমূলক সংলাপে বিশ্বাসী। বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো যুক্তিযুক্ত ভূমিকা রাখা এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সবার আগে থাকতে হবে বাংলাদেশের স্বার্থ। সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য বিতর্ক, জবাবদিহি এবং জাতীয় স্বার্থে দলীয় অবস্থান অতিক্রম করার মানসিকতা দরকার।

‎প্রশ্ন: ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় তরুণরা এই নির্বাচনে কী ভূমিকা রেখেছে?
‎উত্তর: অনেক তরুণ ভোটারের জন্য এটি ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে তারা অনুভব করেছে তাদের ভোটের মূল্য আছে। তাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ— এটি আমাদের বড় সম্পদ। বিএনপি শুরু থেকেই যুবকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেলের ওপর জোর দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে “দ্য প্ল্যান” শিরোনামে টাউন হলধর্মী সংলাপ, রিলস প্রতিযোগিতা এবং “লেটার্স টু তারেক রহমান” উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে তরুণরা নীতিগত বিষয়ে মতামত দিয়েছে। তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই।

‎প্রশ্ন: ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের ভোটারদের কেউ কি বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে?
‎উত্তর: জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করেছে। অনেকে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যখন ভোটাররা মনে করেন তাদের পছন্দের দল কার্যকর বিকল্প দিতে পারছে না, তখন তারা স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন। এটি জাতীয় ঐক্যের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
‎প্রশ্ন: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগোবে?
‎উত্তর: ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের মতো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। আমাদের নীতি “বাংলাদেশ ফার্স্ট”। শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, সব প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চাই। সার্কের মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে।

‎প্রশ্ন: চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে দেখছেন?

‎উত্তর: নির্বাচনের আগে কূটনীতিকদের সঙ্গে যে বৈঠকগুলো হয়েছে, সেগুলো ছিল প্রাথমিক পরিচিতিমূলক। সরকার পুরোপুরি কার্যকর হলে কাঠামোগত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হবে। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক, কোনো মতাদর্শিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়।

‎প্রশ্ন: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা কি তারেক রহমানের নেতৃত্বে থাকবে?

‎উত্তর: মূল নীতির ক্ষেত্রে অবশ্যই ধারাবাহিকতা থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক দর্শন ছিল গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। ভিশন ২০৩০ এবং ৩১ দফা কর্মসূচির মতো অনেক উদ্যোগ তাঁর সময়েই শুরু হয়। তারেক রহমান সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখানে ধারাবাহিকতা আছে, পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তনও আছে।

‎তারেক রহমানের নেতৃত্বে লক্ষ্য থাকবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়া এবং একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়া।
‎#