Daily Durjatra

মূলধারার সাংবাদিকদের জ্বালানি দিতে পাম্প মালিকদের আহ্বান জলবায়ু সুরক্ষায় ছাত্রনেতা আসিফের উদ্যোগে ঝালকাঠিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‎ হাদি হত্যার ১০০ দিন: ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের বিচার দাবি ঝালকাঠিতে গণহত্যা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সভা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি : ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ‎ সন্তানের লা*শ কোলে নিয়ে বিচার চাইলেন মা দায়িত্ব না দিয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে, ৮ ঘণ্টা অন্ধকারে ঝালকাঠির গ্রাহকরা খাল আমাদের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও লাইফলাইন” – প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান ড. জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে ঝালকাঠিতে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

দায়িত্ব না দিয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে, ৮ ঘণ্টা অন্ধকারে ঝালকাঠির গ্রাহকরা

দূরযাত্রা রিপোর্ট :

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে না রেখেই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে করে জেলার বিদ্যুৎ সেবা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় ঈদের পরদিন (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝালকাঠি টাউন-১ ফিডারের গোরস্থান সংলগ্ন একটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটান গ্রাহকরা। পরদিন ভোর ৪টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি অপসারণ করে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনে দীর্ঘ সময় লাগে। এ সময় দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দুই সহকারী প্রকৌশলীর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তিন উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান কোনো লিখিত দায়িত্ব না দিয়েই ছুটিতে যান। যদিও মৌখিকভাবে নলছিটি আবাসিক প্রকৌশলী সোহেল রানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময় তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরে সকালে তিনি ফোনে খোঁজ নেন।

এদিকে, ২৩ মার্চ সকালেও বিভিন্ন ফিডারে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও চালু করা হয়, যা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমন দায়িত্বহীন অবস্থায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নিত?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সখ্যতার কারণে কিছু লাইনম্যান ইচ্ছামতো কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে এসে খাতায় স্বাক্ষর করেন। এতে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে।

এ বিষয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল করিম বলেন, “মেয়ের অসুস্থতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে পটুয়াখালীতে যেতে হয়েছে। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী কাউকে লিখিতভাবে দায়িত্ব না দিয়েই ছুটিতে গেছেন।”

উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সেলিম বলেন, “আমি ছুটি না পাওয়ায় কর্মস্থলে ছিলাম। কিন্তু আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরও শ্রমিক জোগাড় করে অনেক কষ্টে লাইন চালু করতে হয়েছে।”

নলছিটি আবাসিক প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, লিখিতভাবে কিছু দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি, তবে ফোনে খোঁজ নিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একবার ফোন রিসিভ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

এদিকে, বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ সরকার বলেন, “বিষয়টি এখনই শুনলাম। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”