Daily Durjatra

ঝালকাঠিতে ছেলের হাতে মা খুন ‎ ঝালকাঠিতে জুলাই শহীদ পরিবারের মাঝে সঞ্চয়পত্র বিতরণ ঝালকাঠিতে বাফলা চ্যারিটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ সহ্য করা হবে না – ইসি সানাউল্লাহ তারেক রহমানের সাথে সিলেটের যুব সংলাপ বাংলাদেশের রাজনীতিকে কী বার্তা দিল গণভোটের প্রচারণায় ঝালকাঠিতে জেলা তথ্য অফিসের ‘ভোটের রিকশা’ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঝালকাঠিতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিল পিআইবি ‎ ঝালকাঠিতে পিআইবির ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠির দুই আসনে চার প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন ‎ ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এবি পার্টির প্রার্থিতা প্রত্যাহার

খানাখন্দে ভরা ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনি টয়লেট সংকটে চরম ভোগান্তি যাত্রীদের

‎মো. শাহীন আলম, ঝালকাঠিঃ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্রস্থল ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড। যেখান থেকে প্রতিদিন শতশত যাত্রী প্রান্তে যাতায়াত করে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডের মাঝে মাঝে খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যাত্রীদের চলাচল বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পরেছে। দীর্ঘ দিন যাত্রী ছাউনিও না থাকায় কাদা পানিতে সয়লাব এই ষ্ট্যান্ডটি। এছাড়াও যাত্রী চলাচলে কোন রাস্তা বা শৌচাগার না থাকায় বাস স্ট্যান্ডটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে।
‎গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ডের প্রতিটি প্রান্তে খানাখন্দ ও পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। আবার কোথাও কাদায় পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে চলাচলের পথ। এতে যাত্রীদের গাড়িতে ওঠানামা করাও হয়ে পড়ছে কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই
দুরবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম ভোগান্তির উৎস।
‎স্থানীয় যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, বাসে উঠতে নামতে গেলে পা রাখার জায়গা নেই। কাদা আর পানি পেরিয়ে কোনো ভাবে উঠতে হয়। মাথার ওপর ছাউনি নেই, বৃষ্টি হলে ভিজে রোদে পুড়ে আমরা চলাচলে বাধ্য হচ্ছি। ‎বাস কাউন্টারের চালান হিরু হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য বাস এখান থেকে চলাচল করে। কিন্তু যাত্রীদের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। ভাঙা রাস্তা, টয়লেটের সংকট সব মিলে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য জায়গা থেকে গাড়ি ধরেন। পৌর কর্তৃপক্ষ বিগত দিনে এ সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমানে ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ডের যে বেহাল অবস্থা, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন না হওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থার সাময়িক স্বস্তি দিতে গত মে মাসে টিআর প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সংস্কার কাজ করেছি, যাতে টয়লেট রিপেয়ারিংসহ জরুরি কিছু কাজ করা হয়। তিনি আরও জানান, এই সাময়িক উদ্যোগ ছাড়াও আমরা বৃহৎ পরিসরের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। প্রকল্পের অধীনে জমি অধিগ্রহণ করে বাসস্ট্যান্ডের পরিধি বাড়িয়ে একটি আধুনিক বাস টার্মিনালে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এখানে থাকবে নতুন যাত্রী ছাউনি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের
ড্রেনেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। এছাড়া পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুগন্ধা নদীর ভাঙনের বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হবে সুনির্দিষ্ট ভাবে তা জানা যায়নি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ঝালকাঠি বাস স্ট্যান্ডের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সম্প্রতি পৌরসভা থেকে কিছু কাজ করার কথা জানানো হলেও বাজেটের সঙ্গে কাযর্স ম্পাদনের সামঞ্জস্য না থাকায় আমি তাদের বিল অনুমোদন করিনি এবং চেক আটকে রেখেছি। এই বাস স্ট্যান্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে ঝালকাঠি জেলা ছাড়াও রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় সরাসরি বাস চলাচল করে। কিন্তু এখানে পানি ও কাঁদার কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমি আশা করি পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুতই এই স্ট্যান্ডের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।