দূরযাত্রা রিপোর্টঃ। সরকারি এমপিওভুক্ত নয়, তারপরও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির নবগ্রাম মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নানা আর্থিক সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় টানা তৃতীয়বারের মতো চমক দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুইজন। পাশের হার ৯২ দশমিক ১১ শতাংশ। যেখানে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে ১৯৬৩ সালে আলহাজ গাজী আজাহার উদ্দিন আহম্মেদ প্রতিষ্ঠা করেন নবগ্রাম মডেল হাই স্কুল। পরবর্তীতে এলাকার উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়নে ২০২১ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো এখান থেকে ৪৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়, যার মধ্যে ৪০ জন পাস করে এবং ৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। ২০২৪ সালেও সাফল্য ধরে রাখে প্রতিষ্ঠানটি, সেবারও জিপিএ-৫ পায় ৭ জন।
বর্তমানে কলেজ শাখায় ১২ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এমপিও না থাকায় তাদের বেতন-ভাতা দিতে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে— যা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাই। সেই কারণেই ফলাফল ভালো হচ্ছে। আমাদের চাওয়া— প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এমপিওভুক্ত হোক।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আলী আজগর ফকির বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি নবগ্রাম মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান— দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত করা হোক।




