দূরযাত্রা রিপোর্ট :
সারাদেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট প্রকৃত মজুদ ঘাটতির কারণে নয়, বরং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির ফল বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, গুজব থেকে সংকটের সূচনা হলেও পরবর্তীতে বিপিসির কঠোর কোটা নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দ্যা বুফেট স্টোরিজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, সম্প্রতি গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যে পাম্প পর্যায়ে চাপ তৈরি হয় এবং স্থানীয় মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
তারা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিবর্তে বিপিসি হঠাৎ করে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের ওপর কোটা আরোপ করে এবং পূর্ববর্তী সময়ের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে প্রায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহের নীতি চালু করে। এতে বাস্তবে অনেক পাম্প বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কার্যকরভাবে তেল উত্তোলন করতে পারছে না।
ডিলারদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আংশিক লোডে তেল তুলতে হলে পরিবহন ব্যয় ডিলারদের প্রাপ্য কমিশনের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানি উত্তোলন বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ কাগজে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে অনেক পাম্প তেল তুলতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিপিসি মার্চ থেকে জুন সময়কালের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে সরবরাহ কমিয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়কালে সেচ ও অন্যান্য কারণে জ্বালানির চাহিদা বেশি থাকে। মার্চের পর থেকে চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে ওই সময়কালকে ভিত্তি ধরে সরবরাহ নির্ধারণ করায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
ডিলারদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা থাকা সত্ত্বেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপণন কোম্পানিগুলোকে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সীমা আরোপের কারণে নীতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, এসব নীতিগত সীমাবদ্ধতার ফলে অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ভোক্তাদের অসন্তোষ, এমনকি পাম্পকর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্থার ঘটনাও ঘটছে। এতে শুধু সরবরাহ ব্যবস্থাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়ছে।
সংকট উত্তরণে সংগঠনটি কয়েকটি প্রস্তাবও তুলে ধরে। এর মধ্যে ডিপোভিত্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি প্রত্যাহার করে অন্তত সাপ্তাহিক কোটা চালু করা, যাতে চাহিদার ওঠানামা অনুযায়ী সরবরাহ সমন্বয় করা যায়। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা বিপণন কোম্পানিগুলোকে বাজার ভারসাম্য রক্ষায় অধিক কার্যকর স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের পেট্রোল ও অকটেনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদিত হয়। এছাড়া দেশের প্রাইভেট রিফাইনারিগুলো থেকেও এসব জ্বালানি উৎপাদিত হয়ে বিপিসি গ্রহণ করে।
তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সঙ্গে সিলেটের গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদনের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। তাই পেট্রোল ও অকটেনের ওপর আরোপিত রেশনিং নীতি দ্রুত প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
#




